মান্দা এস,সি,মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজটি মান্দা উপজেলাধীন সবচেয়ে প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ১৯১০ ইং সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্থাপিত। ১৯৩৮ইং সালে উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে রুপান্তরিত হয়। প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি একই উপজেলার নবগ্রাম নামক স্থানে শ্যামচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয় নামে ( সংক্ষেপে এস,সি) প্রতিষ্ঠিত ছিল যাহা কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃতি প্রাপ্ত। তৎকালীন জমিদার ঘাটকৈর গ্রাম নিবাসী শ্যামচাঁদ মহোদ্বয় অত্র এলাকার সাধারন জনগণের শিক্ষার আলো প্রসারের প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেছিলেন। নিয়মতান্ত্রিক অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি চলাকালীন সময়ে ১৯৬১ ইং সালে এস,ডি,ও ইয়ার উদ্দিন চৌধুরী মহোদ্বয় বিদ্যালয়টি পরিদর্শনের জন্য আগমন করেন। পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত ভাল কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠিত অঞ্চলটি একেবারেই প্রত্যন্ত অঞ্চল। যার কারণে মান্দা থানার পাশে যদি বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয় , তাহলে অত্র এলাকার জনগণের শিক্ষা বিস্তারের পথ সুগম হবে। এ লক্ষে বিদ্যালয়টি ১৯৬১ইং সালে মান্দা থানার পাশে মান্দা শ্যামচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয় (সংক্ষেপে এস,সি) নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর অত্র প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়টির আসবাবপত্র সহ যাবতীয় কাগজপত্রাদী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। যুদ্ধ শেষে প্রতিষ্ঠানটি আবার চালূ হয় এরপর ১৯৭৮ইং সালে মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবের শাসনামলে তিনি পাইলট স্কীমের আয়তায় পাইলট বিদ্যালয় হিসেবে ঘোষনা করেন। ১৯৯৫ সালে প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, নওগাঁ জেলার এটিএম মাঠে বিদ্যালয়টিকে সরকারী ঘোষনা করেন। এমতোবস্থায় ২০১১ইং সালে সরকারের মডেল প্রকল্পের আয়তায় বিদ্যালয়টি মডেল হিসেবে পরিগণিত হয় এবং মডেল কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। মডেল বিদ্যালয় জাতীয়করণ এর সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে অত্র প্রতিষ্ঠান উপজেলা সদরে হওয়া সত্তেও জাতীয়করণ না করে ৭ কি:মি: দুরে প্রত্যন্ত এলাকায় অন্য প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২০১৩ – ২০১৪ শেসন থেকে বিদ্যালটি কলেজে রুপান্তর করা হয়েছে (একাদশ দ্বাদশ শ্রেণী খোলা হয়েছে প্রাথমিক অনুমতিপ্রাপ্ত, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নয়)। এ পর্যন্ত অনেক বছর পেরিয়ে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষর্থী বের হয়ে দেশের বিভিন্ন স্তরের কল্যান মূলক সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে বিদ্যালয়টি বর্তমানে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত চালু রয়েছে , এছাড়া বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ,নবম দশম শ্রেণীতে ৫টি ট্রেডে এস,এস,সি ভোকেশনাল শিক্ষাক্রম চালু রয়েছে। এখানে পাঠদান শ্রেণী কক্ষ পাকা ও আধাপাকা সহ মোট ২১টি কক্ষ, ৫টি আলাদা বিজ্ঞানাগার, ১টি গ্রন্থাগার , ১টি মান সম্মত কম্পিউটার ল্যাব সহ অন্যান্য ল্যাব ৪টি, অফিস কক্ষ ৩টি , ছাত্রী সাধারণ কক্ষ ১টি, খেলার মাঠ সহ মোট= ২ একর ৭৭ শতাংশ জমিতে নির্মিত প্রতিষ্ঠানটি আত্রাই নদীর তীরে এবং পাকা রাস্তার পাশে সুন্দর পরিবেশে অবস্থিত। বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীর সংখ্যা মানসম্মত এবং কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা মাধ্যমিক সাধারন শাখা কর্মরত ১৮ জন কারিগরি শাখায় কর্মরত ১৮ জন ও (শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক প্রাথমিক অনুমতি প্রাপ্ত কলেজ শাখায় ১৩ জন)। ১৯৩৮ইং সাল হতে বিদ্যালয়টি মাথা উচুঁকরে আজও দাড়িয়ে আছে ভবিষ্যৎ এ ও থাকবে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি এই বিশ্বাস ও ভরসা রেখে বিদ্যালয়টির ইতিহাস সাময়িক ইতি টানছি।